মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে জামালপুরের একটি গ্রামের মানুষ যখন এক কাতারে দাঁড়ায়, তখন সেটি শুধু একটি কর্মসূচি নয়—একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ নেয়। এমনই এক দৃশ্য দেখা গেছে জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলা-এর আওনা ইউনিয়ন-এর কাবারিয়াবাড়ী গ্রামে।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ ২০২৬) সকালে কাবারিয়াবাড়ী গ্রামে মাদক নির্মূলের দাবিতে ব্যাপক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। গ্রামের প্রধান সড়কে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সর্বস্তরের জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় মসজিদের ইমামসহ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, শিক্ষক, যুবসমাজ, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনটি সঞ্চালনা করেন ঢাকা জজকোর্টের আইনজীবী এডভোকেট সাদ্দাম হোসেন এবং কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন মাজাহারুল ইসলাম।
এ সময় বক্তব্য রাখেন শিক্ষক আব্দুল হামিদ, শিক্ষক রফিকুল ইসলাম, শিক্ষক রিপন, ইউপি সদস্য আয়নাল হক। এছাড়াও বক্তব্য দেন সরিষাবাড়ী উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আতিক মুল্লিক, আওনা ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতি আব্দুল খালেক। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরিষাবাড়ী উপজেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান মাছুম।
বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার কিছু অসাধু ব্যক্তির কারণে কাবারিয়াবাড়ী গ্রামে মাদকের বিস্তার ঘটছে। এর ফলে গ্রামে চুরি, ছিনতাই, ঝগড়া-বিবাদসহ বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা পুরো সমাজব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ফেলছে।
তারা আরও বলেন, মাদক একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি, যা শুধু একজন মানুষ নয়, একটি পরিবার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও ধ্বংস করে দেয়। তাই এখনই সময় মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা হাতে প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে “মাদকমুক্ত গ্রাম চাই” স্লোগান দেন এবং দ্রুত মাদক নির্মূলের দাবি জানান।
মানববন্ধন চলাকালে দুজন মাদকসেবীর সঙ্গে কথা বলা হলে তারাও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তারা নিজেদের ভুল স্বীকার করে ভবিষ্যতে মাদক থেকে দূরে থাকার প্রতিজ্ঞা করেন এবং অন্যদেরও সচেতন করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এ ঘটনা উপস্থিত জনতার মাঝে ইতিবাচক সাড়া সৃষ্টি করে।
উল্লেখ্য, এর আগে এলাকায় মাদকবিরোধী লিফলেট বিতরণ ও দোকানপাটে পোস্টার লাগানোর মাধ্যমে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হলেও তাতে তেমন পরিবর্তন আসেনি বলে জানান স্থানীয়রা।
মানববন্ধন থেকে গ্রামবাসীরা প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান, যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
এ সময় এলাকাবাসী আরও জানান, প্রয়োজনে তারা আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলবেন এবং মাদক নির্মূলে যেকোনো ধরনের সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে প্রস্তুত রয়েছেন।
গ্রামবাসীর আশা, প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ এবং সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে কাবারিয়াবাড়ী গ্রাম শিগগিরই মাদকমুক্ত একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ এলাকায় পরিণত হবে।
দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির নতুন ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) হলেন মোঃ মনিরুজ্জামান। নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবারে ব্যুরো চিপ (ঢাকা বিভাগ) পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী মোঃ মনিরুজ্জামান। তার দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা অভিজ্ঞতা ও নিষ্ঠা প্রতিষ্ঠানকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীলরা জানান, দুর্নীতি দমন ও সামাজিক অন্যায়-অবিচার তুলে ধরতে মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নেবে। এই উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেনঃ ১️⃣ মোঃ শাহ নেওয়াজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ২️⃣ মোঃ শহিদুল ইসলাম, সম্পাদক ও প্রকাশক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ৩️⃣ মোঃ মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি তারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন— “আমরা মোঃ মনিরুজ্জামান সাহেবের সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি। তার প্রচেষ্টা ও নেতৃত্বে দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি পরিবার অচিরেই আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।”
নামাজ, রোজা, জাকাত, হজ, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৯২৯তম পর্বে ই-মেইলের মাধ্যমে কানিজ নাহার দিপা জানতে চেয়েছেন, মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? অনুলিখন করেছেন মোহাম্মদ সাইফ আহমেদ। প্রশ্ন : মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া-মাহফিল করা জায়েজ কি? উত্তর : না দোয়ার জন্য আলাদা কোনো মাহফিল নেই। এটা আসবে কেন? আমরা একটা জায়গা থেকে বাঁচার জন্য আরেকটি কাজ করছি। কিন্তু সেই কাজটি ভুল করে আরও বড় ভুলের সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। আমাদের সমাজে একটি প্রথা একেবারে ছেয়ে গেছে। যেমন—একজন মারা গেলে তার জন্য মিলাদ-মাহফিল করা কিংবা কূলখানি করা। কিন্তু এগুলো সবই বেদআতি কাজ। এগুলো সঠিক কাজ নয়। অনেকে মনে করছে, দোয়া-মাহফিল করা যেতে পারে। কিন্তু সেটা একদমই নয়। এসব ইসলামে অনুমোদন দেয়নি। এইগুলো পুরোটাই বেদআত। মানুষ চাইলে যে কোনো সময় কিংবা যে কোনো জায়গা থেকে দোয়া করতে পারবেন। দোয়ার সঙ্গে মাহফিল কিংবা আলাদা কোনো ধরনের অনুষ্ঠান ঘোষণা করা জায়েজ নেই। আশা করি, আপনি বুঝতে পেরেছেন।
তিনি ছিলেন মানবজাতির আদর্শ। তিনি অত্যন্ত উদার ও বিনয়ী ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক এবং একজন সাহসী যোদ্ধা। এছাড়াও তিনি একজন দক্ষ প্রশাসক, একজন দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক এবং একজন সফল প্রচারক ছিলেন। তিনিই উত্তম চরিত্র ও উদারতার একমাত্র উৎস। তিনি সকলের আদর্শহীন এবং প্রিয় ব্যক্তিত্ব। যার প্রেমে, দুনিয়া মাতাল। তিনি আমার আদর্শ, তিনি আমার নেতা। তিনি আমার নবী, আমাদের নবী এবং সকলের নবী। তিনি হলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.) তিনি সর্বোত্তম আদর্শ। সমস্ত মানবজাতির জন্য করুণা। অন্ধকারে নিমজ্জিত বিশ্বের মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে। তার অসাধারণ চরিত্র, মাধুর্য এবং অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব সবাইকে অবাক করেছে। মুমিনের চঞ্চল হৃদয় তাকে এক নজর দেখার জন্য আকুল হয়ে থাকে। কবি কাজী নজরুল বলেছেন: “বিচ্ছেদের রাত ছিল একাকার কান্নার ভোর; আমার মনে শান্তি নেই, আমি কাঁদছি। হে মদিনাবাসীর প্রেমিক, আমার হাত ধর।" তার নিষ্কলুষ চরিত্রের স্বীকৃতি দিয়ে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, "তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।" (সূরা আল-আহজাব, আয়াত 21)। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে আজ কিছু লোক সেই নবীর সম্মানকে অবমাননা করছে। হৃদয় ভেঙ্গে যায়। আমাদের ক্ষমা করুন, হে নবী! তিনি তার অবিস্মরণীয় ক্ষমা, উদারতা, সততা, নম্রতা প্রভৃতির বিরল মুগ্ধতা দিয়ে বর্বর আরব জাতির আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এজন্য তারা তাকে ‘আল-আমিন’ উপাধিতে ভূষিত করেন। তারা সর্বসম্মতিক্রমে স্বীকার করেছিল যে তিনি নম্র এবং গুণী ছিলেন। টাকা দিয়ে নয়, ভালো ব্যবহার দিয়ে তিনি বিশ্ববাসীকে জয় করেছেন। আল্লাহ তাঁর গুণাবলী সম্পর্কে কুরআনে ঘোষণা করেছেন, ‘নিশ্চয়ই তুমি মহৎ চরিত্রের অধিকারী।’ (সূরা আল কালাম, আয়াত ৪)। তিনি কখনো মানুষকে তুচ্ছ করেননি। আত্মসম্মানবোধে তিনি কাউকে তুচ্ছ মনে করেননি। তিনি বিশ্বের হৃদয়ে উচ্চতর চরিত্রের একটি অনুপম মানদণ্ড স্থাপন করেছেন। নম্রতা তার চরিত্রে সর্বদা উপস্থিত ছিল। পৃথিবীর মানবতার কল্যাণে তাকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল শ্রেষ্ঠ আদর্শের বাস্তবায়নকারী ও প্রশিক্ষক হিসেবে। এ প্রসঙ্গে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমাকে আমার উত্তম চরিত্র পূর্ণ করার জন্য প্রেরিত করা হয়েছে।’ (মুসনাদে আহমদ, মিশকাত) ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন বিনয়ী এবং আচার-আচরণে অত্যন্ত বিনয়ী। দুর্বল ব্যক্তিকে কড়া কথায় আঘাত করবেন না। তিনি কোন মানুষকে তার সাধ্যের বাইরে অসাধ্য সাধন করতে বাধ্য করেননি। গরিব-অসহায় মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করতেন। তিনি লোকদেরকে তাদের আচরণে অপ্রয়োজনীয় রাগ ও রাগ থেকে সর্বদা বিরত থাকার উপদেশ দিতেন এবং মানুষকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন, “যে বিনয়ী হয়, আল্লাহ তাকে উঁচু করে দেন এবং যে অহংকারী হয়, আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করেন।” (মিশকাত) কাফেররাও তার কাছ থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে সদয় ও নম্র আচরণ পেয়েছিল। তার অনুসারীরা তাকে উচ্চ সম্মানের সাথে ধরেছিল কারণ তিনি খুব নমনীয় এবং নম্র ছিলেন। হজরত আয়েশা (রা.) তার ভদ্র আচার-আচরণ সম্পর্কে বলেন, ‘নবী (সা.) রূঢ় বক্তা ছিলেন না, প্রয়োজনের সময়ও তিনি কঠোর ভাষা ব্যবহার করতেন না। প্রতিহিংসা তার সাথে ছিল না মোটেও। মন্দের বিনিময়ে ভালোই করেছেন। সব ক্ষেত্রেই তিনি ক্ষমা পছন্দ করতেন। তিনি লোকদেরকে উপদেশ দিয়েছিলেন, “আল্লাহর ইবাদত কর, করুণাময় প্রভু, ক্ষুধার্তকে খাবার দাও, সালাম দাও এবং এসব কাজের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ কর। তিনি উত্তর দিলেন, "ক্ষুধার্তকে খাওয়ানো এবং অপরিচিত সকলকে সালাম করা।" (বুখারী ও মুসলিম)। মহানবী (সা.)-এর মর্যাদাকে সম্মান করা মুসলমানদের ধর্মীয় কর্তব্য এবং প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানের মৌলিক অংশ।
মাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আপনার জিজ্ঞাসার ২৩৩৪তম পর্বে নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে নিয়ামত কমে যাবে কি না, সে বিষয়ে ঢাকা থেকে চিঠির মাধ্যমে জানতে চেয়েছেন একজন দর্শক। অনুলিখন করেছেন জান্নাত আরা পাপিয়া। প্রশ্ন : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে কি নিয়ামত কমে যাবে? উত্তর : নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা কুফরি। এটা বড় কুফরি না, ছোট কুফরি। যদি আল্লাহর বান্দারা আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করে থাকেন, তাহলে তাঁরা কুফরি কাজ করে থাকলেন। এ জন্য আল্লাহ কোরআনে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘তোমরা আমার শুকরিয়া আদায় করো, আমার সঙ্গে কুফরি করো না।’ আল্লাহ যে নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন, আল্লাহর নিয়ামত লাভ করে সুন্দর জীবনযাপন করা, এটা যদি কেউ আল্লাহর কাছে সত্যিকার অর্থে তুলে ধরতে না পারে, তাহলে সে ব্যক্তি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া করলেন না, কুফরি করলেন। এই জন্য আল্লাহ সুরা দোহার শেষ আয়াতে বলেছেন, ‘তুমি তোমার রবের নিয়ামত প্রকাশ করো। কারণ, তোমার কাছে যখন নিয়ামত আসছে, তখন আল্লাহ পছন্দ করেন যে তুমি আল্লাহর এই নিয়ামতের বিষয়টি তুলে ধরবে।’ আল্লাহর কাছে বলবে, আল্লাহ আমাকে এই নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন। আল্লাহ নিয়ামতকে বান্দার কাছে তুলে ধরার জন্য বলেছেন, বহিঃপ্রকাশ করার জন্য বলেছেন। বহিঃপ্রকাশ দুই ধরনের হতে পারে। একটি হলো নিয়ামতের ব্যবহারের মাধ্যমে বহিঃপ্রকাশ করা। দ্বিতীয়ত, নিয়ামতের বিষয়টি হলো মানুষের কাছে নিয়ামত তুলে ধরবে। যাতে করে আল্লাহর প্রশংসা প্রকাশ পায়। নিয়ামতের শুকরিয়া যদি কেউ আদায় না করেন, তাহলে কুফরি হবে। আল্লাহ বলেছেন, যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করে থাক, তাহলে আমি আরো বৃদ্ধি করে দেব। বান্দারা যখন নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করবে, তখন আল্লাহ আরো নিয়ামত দিয়ে সমৃদ্ধ করে দেন। আর যদি আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা হয়, তাহলে আল্লাহ নিয়ামত কমিয়ে দেবেন এবং সেইসঙ্গে আরেকটি কঠিন বাণী আল্লাহ বলেছেন, ‘জেনে রাখো আল্লাহর কঠিন আজাবও তোমাদের জন্য অবধারিত থাকবে।’ নিয়ামতের শুকরিয়া শুধু মুখে আদায় করা যথেষ্ট নয়। কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর শুকরিয়া আমলের মাধ্যমে আদায় করো।’ সুতরাং বান্দারা শুকরিয়া আদায় করবে। শুকরিয়ার অনেকগুলো দিক রয়েছে, তার মধ্যে আমলের মাধ্যমে শুকরিয়া আদায় করা হলো শুকরিয়ার সর্বোচ্চ স্তর।
র্তমান প্রযুক্তি বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি ও চীনের ডিপসিকের মধ্যে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতার নয়, বরং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চ্যাটজিপিটি দীর্ঘদিন ধরে ব্লগ লেখা, গবেষণা, প্রোগ্রামিংসহ নানান কাজে অপরিহার্য টুল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি চীনের তৈরি ডিপসিক এআই জগতে নতুন আলোড়ন তুলেছে। তারা দাবি করছে, তুলনামূলক কম চিপ ব্যবহার করেই অত্যাধুনিক এআই সেবা দেওয়া সম্ভব, যেখানে ওপেনএআই-এর বিশাল মডেলগুলোর জন্য ১৬,০০০ বা তারও বেশি চিপ প্রয়োজন হয়, সেখানে মাত্র ২০০০ চিপ দিয়ে ডিপসিক কার্যকরভাবে কাজ করতে সক্ষম। দুই প্ল্যাটফর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। ✅ চ্যাটজিপিটি: বিস্তৃত বিশ্লেষণ ও গভীর গবেষণা উপস্থাপন করতে পারে, যা একাডেমিক ও জটিল সমস্যার সমাধানে সহায়ক। ✅ ডিপসিক: দ্রুত এবং সংক্ষিপ্ত উত্তর দিতে পারে, যা তাৎক্ষণিক ফলাফল প্রত্যাশী ব্যবহারকারীদের জন্য উপযোগী। লেখালেখির ক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি কেবল ধারণা ও প্লটের কাঠামো গড়ে তোলে, যেখানে ডিপসিক প্রায় পুরো গল্প তৈরি করে দিতে পারে। একইভাবে, কোডিংয়ের ক্ষেত্রেও ডিপসিক কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত সমাধান দিতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। ডিপসিকের বিরুদ্ধে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা সংরক্ষণ ও তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি দেশের সরকার ইতোমধ্যেই ডিপসিকের ডেটা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ওপেনএআই নিজেও অতীতে অনুমতি ছাড়া মানুষের লেখা ডেটা প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহারের অভিযোগের মুখে পড়েছিল, যা এখন ডিপসিকের বিরুদ্ধে উঠছে। ডিপসিকের সাফল্যের ফলে এআই চিপের বাজারেও বড় প্রভাব পড়েছে। এনভিডিয়া, যারা উন্নত চিপ তৈরিতে বিশ্বব্যাপী অগ্রগণ্য, তাদের শেয়ারের মূল্য একদিনে প্রায় ১৭% কমে গেছে। কারণ, কম শক্তিশালী হার্ডওয়্যারেও কার্যকর এআই সম্ভব হলে উচ্চমূল্যের উন্নত চিপের বাজার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা নতুন কিছু নয়, তবে ডিপসিকের উদ্ভাবন নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই চীনে উন্নত চিপ রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, কম খরচে ভালো এআই তৈরি হলে মার্কিন প্রযুক্তি খাতেরও লাভ হতে পারে। এই প্রতিযোগিতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎকে আরও উন্নত ও বহুমাত্রিক করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যেখানে দ্রুত এবং সাশ্রয়ী সমাধান দরকার, সেখানে হয়তো ডিপসিক এগিয়ে থাকবে, আর যেখানে গবেষণা ও জটিল বিশ্লেষণের প্রয়োজন, সেখানে চ্যাটজিপিটির মতো বৃহৎ মডেলগুলো প্রাধান্য পাবে। শেষ পর্যন্ত, এই প্রতিযোগিতাই হয়তো এআই প্রযুক্তিকে আরও দক্ষ, নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী করবে।
মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে জামালপুরের একটি গ্রামের মানুষ যখন এক কাতারে দাঁড়ায়, তখন সেটি শুধু একটি কর্মসূচি নয়—একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ নেয়। এমনই এক দৃশ্য দেখা গেছে জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলা-এর আওনা ইউনিয়ন-এর কাবারিয়াবাড়ী গ্রামে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ ২০২৬) সকালে কাবারিয়াবাড়ী গ্রামে মাদক নির্মূলের দাবিতে ব্যাপক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। গ্রামের প্রধান সড়কে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সর্বস্তরের জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় মসজিদের ইমামসহ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, শিক্ষক, যুবসমাজ, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধনটি সঞ্চালনা করেন ঢাকা জজকোর্টের আইনজীবী এডভোকেট সাদ্দাম হোসেন এবং কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন মাজাহারুল ইসলাম। এ সময় বক্তব্য রাখেন শিক্ষক আব্দুল হামিদ, শিক্ষক রফিকুল ইসলাম, শিক্ষক রিপন, ইউপি সদস্য আয়নাল হক। এছাড়াও বক্তব্য দেন সরিষাবাড়ী উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আতিক মুল্লিক, আওনা ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতি আব্দুল খালেক। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরিষাবাড়ী উপজেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান মাছুম। বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার কিছু অসাধু ব্যক্তির কারণে কাবারিয়াবাড়ী গ্রামে মাদকের বিস্তার ঘটছে। এর ফলে গ্রামে চুরি, ছিনতাই, ঝগড়া-বিবাদসহ বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা পুরো সমাজব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ফেলছে। তারা আরও বলেন, মাদক একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি, যা শুধু একজন মানুষ নয়, একটি পরিবার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও ধ্বংস করে দেয়। তাই এখনই সময় মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা হাতে প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে “মাদকমুক্ত গ্রাম চাই” স্লোগান দেন এবং দ্রুত মাদক নির্মূলের দাবি জানান। মানববন্ধন চলাকালে দুজন মাদকসেবীর সঙ্গে কথা বলা হলে তারাও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তারা নিজেদের ভুল স্বীকার করে ভবিষ্যতে মাদক থেকে দূরে থাকার প্রতিজ্ঞা করেন এবং অন্যদেরও সচেতন করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এ ঘটনা উপস্থিত জনতার মাঝে ইতিবাচক সাড়া সৃষ্টি করে। উল্লেখ্য, এর আগে এলাকায় মাদকবিরোধী লিফলেট বিতরণ ও দোকানপাটে পোস্টার লাগানোর মাধ্যমে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হলেও তাতে তেমন পরিবর্তন আসেনি বলে জানান স্থানীয়রা। মানববন্ধন থেকে গ্রামবাসীরা প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান, যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এ সময় এলাকাবাসী আরও জানান, প্রয়োজনে তারা আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলবেন এবং মাদক নির্মূলে যেকোনো ধরনের সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে প্রস্তুত রয়েছেন। গ্রামবাসীর আশা, প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ এবং সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে কাবারিয়াবাড়ী গ্রাম শিগগিরই মাদকমুক্ত একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ এলাকায় পরিণত হবে।
টাঙ্গাইলে জেলা পুলিশের অভিযানে মাদকসহ ২৬ জন গ্রেপ্তার টাঙ্গাইল ১৪ মার্চ ২০২৬ ইং তারিখে টাঙ্গাইলে অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশের নিয়মিত বিশেষ অভিযানে মাদক উদ্ধারসহ বিভিন্ন মামলায় মোট ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।জেলা পুলিশের গণমাধ্যম শাখা সূত্রে জানা যায় জেলার বিভিন্ন থানা ও ইউনিটের সমন্বয়ে পরিচালিত এ অভিযানে প্রিভেন্টিভ মামলা নিয়মিত মামলা মাদক ব্যবসাওপরোয়ানাভুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। অভিযানে জেলার প্রতিটি থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাঠে থেকে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার।গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত অভিযানে প্রিভেন্টিভ নিয়মিত মামলা মাদক সংক্রান্ত অপরাধ এবং পরোয়ানাভুক্ত আসামিসহ মোট ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।এ সময় মাদকবিরোধী অভিযানে ১২০ পিস ইয়াবা ৪৯০ গ্রাম গাঁজা এবং ১০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৮ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।জেলা পুলিশ জানিয়েছে অপরাধ দমন ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
মির্জাপুরে চেতনানাশক খাইয়ে অটোচালক হত্যা: প্রধান আসামি র্যাবের জালে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে চেতনানাশক দ্রব্য খাইয়ে অটোচালককে হত্যা করে অটো ছিনতাইয়ের ঘটনায় প্রধান আসামি মজিদুল ইসলাম ওরফে বিক্কু (৩৪) কে গ্রেফতার করেছে র্যাব। বুধবার (১১ মার্চ ২০২৬) রাতে গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার পীরপল বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। র্যাব-১৪, সিপিসি-৩ টাঙ্গাইল ক্যাম্পের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অটোচালক আলকাজ মিয়া প্রতিদিনের মতো অটো নিয়ে বের হন। সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তাকে চুরির উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত মাত্রায় চেতনানাশক দ্রব্য সেবন করায়। পরে তাকে টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলার জুই-যুথি সিএনজি পাম্পের পূর্ব পাশে ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কে অচেতন অবস্থায় ফেলে রেখে তার ব্যবহৃত অটোটি ছিনিয়ে নেয়। পরে হাইওয়ে পুলিশ অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইলের কুমুদিনী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অটোচালক আলকাজ মিয়ার মৃত্যু হয়।এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে গত ২ মার্চ মির্জাপুর থানায় একটি হত্যা ও অটোচুরির মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পেনাল কোডের ৩২৮/৩৭৯/৩০২/২০১/৩৪ ধারায় দায়ের করা হয়।মামলা দায়েরের পর থেকেই র্যাব-১৪ এর সিপিসি-৩ টাঙ্গাইল ক্যাম্পের একটি দল গোয়েন্দা নজরদারি ও ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তের এক পর্যায়ে গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার পীরপল বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি মজিদুল ইসলাম ওরফে বিক্কুকে গ্রেফতার করা হয়। এ অভিযানে র্যাব-১৩ গাইবান্ধা ক্যাম্প সহায়তা করে।গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানায় র্যাব।