যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদের মালিক হতে হয়—এটাকেই বলা হয় নিসাব। নিসাবের পরিমাণ নির্ধারিত হয়েছে সোনা বা রূপার মানদণ্ডে। যার সম্পদ এক পূর্ণ হিজরি বছর ধরে নিসাব পরিমাণ বা তার বেশি থাকে, তার ওপর যাকাত ফরজ হয়।
🔹 সোনা ও রূপার নিসাব (শরঈ পরিমাণ)
সোনা: ৭.৫ তোলা ≈ ৮৭.৪৮ গ্রাম
রূপা: ৫২.৫ তোলা ≈ ৬১২.৩৬ গ্রাম
হাদিসে এই পরিমাণ নির্ধারিত আছে। তাই সোনা ও রূপার নিসাব আলাদা—হ্যাঁ, ওজনের দিক থেকে আলাদা।
🔹 তাহলে টাকায় নিসাব কত?
নিসাব টাকায় নির্ধারণ করতে হলে বর্তমান বাজারদর জানতে হবে।
উদাহরণ (হিসাব বোঝার জন্য কাল্পনিক মূল্য):
যদি ১ গ্রাম রূপার দাম হয় ১২০ টাকা
→ ৬১২.৩৬ × ১২০ = ৭৩,৪৮৩ টাকা (প্রায়)
অর্থাৎ, যদি আপনার মোট যাকাতযোগ্য সম্পদ ৭৩–৭৫ হাজার টাকার বেশি হয় (রূপার হিসাবে), তাহলে যাকাত ফরজ হবে।
⚠ সাধারণত আলেমরা রূপার নিসাব অনুযায়ী হিসাব করতে বলেন, কারণ এতে গরিবদের উপকার বেশি হয় এবং শরীয়তের দৃষ্টিতে এটি নিরাপদ পন্থা।
🔹 যাকাতযোগ্য সম্পদ কী কী?
নিচের সম্পদগুলো যোগ করে হিসাব করবেন—
নগদ টাকা (হাতে ও ব্যাংকে)
সোনা–রূপা
ব্যবসার পণ্য
শেয়ার/ইনভেস্টমেন্ট (যাকাতযোগ্য অংশ)
কারো কাছে পাওনা টাকা (যা পাওয়ার আশা আছে)
যা বাদ যাবে:
বসবাসের বাড়ি
ব্যবহারের গাড়ি
ব্যক্তিগত আসবাব
প্রয়োজনীয় ব্যবহার্য জিনিস
🔹 কিভাবে যাকাত হিসাব করবেন?
১. সব যাকাতযোগ্য সম্পদ যোগ করুন।
২. সেখান থেকে তাত্ক্ষণিক দেনা (যা এখন পরিশোধযোগ্য) বাদ দিন।
৩. যদি অবশিষ্ট সম্পদ নিসাব পরিমাণ বা তার বেশি হয় এবং এক বছর অতিক্রম করে, তাহলে মোট সম্পদের ২.৫% (অর্থাৎ ১/৪০ অংশ) যাকাত দিতে হবে।
We use cookies to improve your experience, deliver personalized content and ads, and analyze our traffic. By continuing to browse our site, you agree to our use of cookies.
Cookie Policy