গাজীপুর মহানগরে দিন দিন বেড়ে চলেছে চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা। সম্প্রতি একই এলাকায় দুই সাংবাদিকের মোটরসাইকেল চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় সাংবাদিক মহলসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করলেও পুলিশ এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি বলে জানা গেছে। ছিনতাইয়ের শিকার মহসিন মোল্লা প্রথম ঘটনা ঘটে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ভোরে। সফিপুর পূর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. মহসিন মোল্লা (৫০) শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মোটরসাইকেলযোগে বাসায় ফেরার পথে ফ্লাইওভারের মাথায় পৌঁছালে অজ্ঞাতনামা ৩-৪ জন দুর্বৃত্ত তার গতিরোধ করে। ধারালো অস্ত্রের মুখে ফেলে তারা মহসিন মোল্লাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তার মালিকানাধীন ইয়ামাহা এফ-জেড ভি-৩ মডেলের মোটরসাইকেল (ঢাকা মেট্রো-ল ২০-৭৭৫৭), নগদ ৩১ হাজার টাকা, একটি স্যামসাং এফ-২৩ মোবাইল ফোন এবং মানিব্যাগে থাকা গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয়। তিনি বাসন থানায় মামলা করলেও এখনো আসামিদের শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। চুরির শিকার আলমগীর হোসেন এর আগে ২৯ জুলাই ২০২৫ তারিখে একই এলাকায় মোটরসাইকেল চুরির শিকার হন বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মুভি বাংলা টেলিভিশনের কালিয়াকৈর উপজেলা প্রতিনিধি আলমগীর হোসেন। তিনি জানান, জরুরি কাজে গাজীপুর চৌরাস্তার রহমান শপিংমল এলাকায় যান। কিছুক্ষণের মধ্যেই তার ব্যবহৃত লনসিন জিপি-১৬৫ মডেলের কালো রঙের মোটরসাইকেল (ঢাকা মেট্রো-ল ৬০-৭৬০৯) চুরি হয়ে যায়। ঘটনার পর তিনি বাসন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও এখনো তার মোটরসাইকেল উদ্ধার হয়নি। আলমগীর হোসেন বলেন, “এটি শুধুমাত্র একটি বাইক চুরি নয়, বরং নাগরিক নিরাপত্তার বড় সংকেত। সাংবাদিক হয়েও আমি নিরাপদ নই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।” সাংবাদিক সমাজের উদ্বেগ বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন এক বিবৃতিতে ঘটনাগুলোর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, “চুরি, ছিনতাই, রাহাজানি এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। সরকার পরিবর্তনের পর অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।” পুলিশের অবস্থান আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনাগুলো তদন্তাধীন রয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। গাজীপুর মহানগরে একের পর এক সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
গোপালপুরে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত, সমবায়ীদের মাঝে চারা ও ঋণ বিতরণ গোপালপুর (টাঙ্গাইল) উন্নত পল্লী সমৃদ্ধ দেশ সবার আগে বাংলাদেশ" প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের গোপালপুরে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে র্যালি আলোচনা সভা এবং সমবায়ীদের মাঝে চারা ও ঋণ বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।সোমবার বিকেলে উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মঞ্জুরুল মোর্শেদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভুঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের উপজেলা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গোপালপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার জাহাঙ্গীর আলম রুবেল সাধারণ সম্পাদক কাজী লিয়াকতসহ-সভাপতি আবু ঈশা মুনিমপৌর বিএনপির সভাপতি খালিদ হাসান উথান উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম তালুকদার (লেলিন) এবং গোপালপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. জয়নাল আবেদীনসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠান শেষে ১৬০ জন সমবায়ী সদস্যের মধ্যে আম ও লিচু গাছের চারা বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি আলমনগর চাঁপা বিত্তহীন মহিলা দলের ১৮ জন নারী সদস্যের মাঝে গাভী পালন কর্মসূচির আওতায় মোট ১০ লাখ ৬ হাজার টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু বলেন উচ্চ সুদে এনজিও থেকে ঋণ গ্রহণের পরিবর্তে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের সহজ শর্তের ঋণ নিয়ে গবাদিপশুর খামার গড়ে তুলতে হবে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের মাধ্যমে দারিদ্র্যমুক্ত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ৭ নম্বর কামরাবাদ ইউনিয়নের বীর বড়বাড়ীয়া গ্রামে দীর্ঘদিনের জনসাধারণের চলাচলের কয়েকটি পথ বন্ধ করে দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধে নতুন মোড় নিয়েছে। সরকারি তদন্তে অভিযোগকারীর উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা না মেলায় বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এরই মধ্যে প্রশাসনের উদ্যোগে ডাকা সমঝোতা বৈঠকে অভিযোগকারী পক্ষের অনুপস্থিতি ঘটনাকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রামের মৃত মোস্তান আনোয়ারী (সাবেক কাজী)-এর স্ত্রী মনোয়ারা চৌধুরী ও মেয়ে বিলকিস আনোয়ারী (রুমি) দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের শতবর্ষের পুরোনো কয়েকটি চলাচলের পথ অবরুদ্ধ করে রেখেছেন। এতে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, কৃষক ও পথচারীদের প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার আপত্তি জানানো হলেও কোনো সমাধান হয়নি বলে দাবি করেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসীর ভাষ্য, চলাচলের পথ উন্মুক্ত করার দাবি জানাতে গেলেই তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। এমনকি নারী নির্যাতন, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য গুরুতর মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা। এ কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। অন্যদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ অস্বীকার করে বিলকিস আনোয়ারী (রুমি) নিজেই সরিষাবাড়ী থানা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। তার অভিযোগে দাবি করা হয়, এলাকাবাসী সরকারি রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছেন। লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) লিজা রিছিল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সরেজমিন তদন্ত করেন। তদন্তকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য শোনা, পথের অবস্থান পরিদর্শন এবং বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর অভিযোগকারীর দাবির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বরং দীর্ঘদিন ধরে জনসাধারণের ব্যবহৃত চলাচলের পথ বন্ধ থাকার বিষয়টি তদন্তে উঠে আসে। বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার উদ্দেশ্যে গত ৭ জুলাই বিকেলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) তার কার্যালয়ে একটি সমঝোতা বৈঠকের আয়োজন করেন। প্রশাসনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বীর বড়বাড়ীয়া গ্রামের ভুক্তভোগী বাসিন্দারা উপস্থিত হলেও অভিযোগকারী বিলকিস আনোয়ারী (রুমি) ও তার পরিবারের কেউ বৈঠকে উপস্থিত হননি। অভিযোগকারী পক্ষের অনুপস্থিতিকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীর মধ্যে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তদন্তে অভিযোগের ভিত্তি না পাওয়ায় প্রশাসনের সামনে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে না পেরে তারা বৈঠক এড়িয়ে গেছেন। গ্রামবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের পথ বন্ধ থাকায় শিশুদের স্কুলে যাওয়া, কৃষকদের জমিতে যাতায়াত, অসুস্থ রোগী পরিবহনসহ দৈনন্দিন নানা কাজে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা। এলাকাবাসী অবিলম্বে জনসাধারণের চলাচলের পথ উন্মুক্ত করে দেওয়ার পাশাপাশি বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তবে এ বিষয়ে অভিযোগকারী বিলকিস আনোয়ারী (রুমি) বা তার পরিবারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
টাঙ্গাইল মেডিকেলে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত ও রোগীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।সভায় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্মসচিব মো.মুস্তাফিজুর রহমান জেলা প্রশাসক শরীফা হক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো.রবিউল ইসলাম, টাঙ্গাইল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শম্ভু রাম পাল সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু,টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নূরুল আমিন মিঞা, হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুস, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন চিকিৎসকবৃন্দ এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। পরে হাসপাতালের পরিচালক স্বাগত বক্তব্য দেন এবং হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম বিদ্যমান সমস্যা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে একটি উপস্থাপনা তুলে ধরেন।সভায় হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবল সংকট দূরীকরণ প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, রোগীদের চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মান বৃদ্ধি, ওয়ার্ডের পরিবেশ উন্নয়ন দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ এবং অ্যাম্বুলেন্স সেবার উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হয়।সভাপতির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন টাঙ্গাইল জেলার মানুষ যাতে উন্নত ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পায় সে লক্ষ্যে আমি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। হাসপাতালের জনবল সংকট দ্রুত নিরসনের চেষ্টা করা হবে। তবে নতুন জনবল নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান জনবল দিয়েই সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।টুকু বলেন চিকিৎসা পেশা অত্যন্ত মানবিক ও দায়িত্বপূর্ণ। মানুষ অসুস্থ হলেই সর্বপ্রথম হাসপাতালের শরণাপন্ন হয়। তাই চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। সীমিত জনবল থাকলেও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মানুষের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব।এ সময় তিনি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে হাসপাতালের সার্বিক সেবার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান বিরোধী জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিশাল সাফল্য পেয়েছে ৫৯ বিজিবি (মহানন্দা ব্যাটালিয়ন)। পৃথক দুটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ‘Eskuf’ সিরাপ জব্দ করেছে বিজিবি টহল দল, যা মূলত ফেন্সিডিলের বিকল্প নেশাজাতীয় দ্রব্য হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। মধ্যরাতের গোপন সংবাদে চিরুনি অভিযানের ভিত্তিতে গত ০৬ জুলাই ২০২৬ তারিখ রাতে মহানন্দা ব্যাটালিয়নের দুটি চৌকস দল এই অভিযান পরিচালনা করে। (সোনামসজিদ বিওপি): সীমান্ত পিলার ১৮৫/১৩-এস থেকে আনুমানিক ৩ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শিবগঞ্জ থানাধীন শাহাবাজপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের পাকা রাস্তার উপর অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় ২০০ বোতল ভারতীয় ‘Eskuf’ সিরাপ উদ্ধার করা হয়। দ্বিতীয় অভিযান (চৌকা বিওপি): সীমান্ত পিলার ১৭৫/২-এস থেকে মাত্র ৪০০ গজ ভেতরে শিবগঞ্জ থানাধীন মনাকষা ইউনিয়নের রাঘববাটি গ্রামে অপর অভিযানটি পরিচালিত হয়। এই অভিযানে পরিত্যক্ত অবস্থায় আরও ৭০ বোতল একই সিরাপ জব্দ করা হয়। মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) গত ৩ মাসে সীমান্তে কঠোর তৎপরতা চালিয়ে ১০ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতারসহ প্রায় ১১,২৪৪ বোতল ফেন্সিডিলের বিকল্প বিভিন্ন ধরনের নেশাজাতীয় সিরাপ আটক করতে সক্ষম হয়েছে। অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে মহানন্দা ব্যাটালিয়নের (৫৯ বিজিবি) অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী (এসজিপি, বিএফএম, পিএসসি) বলেন: "দেশের যুবসমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা করতে বিজিবি সর্বদা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান বন্ধে আমাদের এই কঠোর অবস্থান ও অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।"
জামালপুর শহরে আইনজীবীর চেম্বারে পুলিশের অভিযান: পাইপগান, গুলি, ককটেল ও পেট্রোল বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার ৭ জুলাই ২০২৬ জামালপুর শহরের পাঁচ রাস্তার মোড় এলাকার মনোয়ারা আলী সুপার মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় এক আইনজীবীর চেম্বারে পুলিশের বিশেষ অভিযানে দুটি পাইপগান, গুলি, ককটেল, পেট্রোল বোমা সদৃশ বস্তু এবং বিদেশি মদ উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় শহরজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) পরিচালিত এ অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দীর্ঘ সময় ধরে তল্লাশি চালান। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই চেম্বারে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের একপর্যায়ে চেম্বারের ভেতর থেকে দুটি পাইপগান, কয়েক রাউন্ড গুলি, একাধিক ককটেল, পেট্রোল বোমা সদৃশ কয়েকটি বস্তু এবং বিদেশি মদের বোতল উদ্ধার করা হয় বলে জানা গেছে। অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয় এবং সুপার মার্কেটের আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পুরো এলাকা ঘিরে রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্কতার সঙ্গে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করেন। পুলিশ উদ্ধার হওয়া আলামতগুলো জব্দ করেছে এবং সেগুলোর প্রকৃতি ও কার্যকারিতা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। বিশেষ করে উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক সদৃশ বস্তুগুলো প্রকৃতপক্ষে ককটেল বা পেট্রোল বোমা কি না এবং এগুলোর সঙ্গে কোনো নাশকতা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এদিকে, অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট আইনজীবী বা অন্য কোনো ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেয়নি। ফলে এ বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অভিযান শেষে উদ্ধার হওয়া আলামত, ঘটনার প্রকৃতি এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে। তদন্তের স্বার্থে আপাতত অনেক বিষয় প্রকাশ করা হচ্ছে না বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনটি প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য, জব্দ তালিকা এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে সংবাদটি হালনাগাদ করা হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) এর একটি বিশেষ অভিযানে ৯৬ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় এস্কাফ সিরাপ জব্দ করা হয়েছে।আজ ০১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) এর অধীনস্থ ফতেপুর বিওপির একটি বিশেষ টহলদল রাত ১টার সময় এই অভিযান পরিচালনা করে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানাধীন দুর্লভপুর ইউনিয়নের গাইপাড়া গ্রাম থেকে এই মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদক: ৯৬ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় এস্কাফ সিরাপ। বাজারমূল্য: ৩৮,৪০০/- (আটত্রিশ হাজার চারশত) টাকা। জব্দকৃত মাদকদ্রব্য শিবগঞ্জ থানায় জমা করা হয়েছে। গত জুলাই মাসে ৫৩ বিজিবি কর্তৃক পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে নিম্নলিখিত মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়:এস্কাফ সিরাপ: ৬৯৯ বোতল (০১ জন আসামীসহ)।ফেয়ারডিল সিরাপ: ৬৪ বোতল।মদ: ৯০ বোতল।মোট বাজারমূল্য: ৪,৪০,২০০/- (চার লক্ষ চল্লিশ হাজার দুইশত) টাকা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান, পিএসসি, এ বিষয়ের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা, পুশ ইন প্রতিরোধ করাসহ যেকোনো অবৈধ চোরাচালান প্রতিরোধে এবং বাংলাদেশ সরকারের মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে বিজিবি সবসময় তৎপর রয়েছে ও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
ধর্ষণের চেষ্টা মামলার আসামিসহ চেক জালিয়াতি মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক গ্রেফতার টাঙ্গাইলে পৃথক অভিযানে ধর্ষণের চেষ্টা মামলার এক আসামি এবং চেক জালিয়াতি মামলায় এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১৪, সিপিসি-৩, টাঙ্গাইল ক্যাম্প। বুধবার (২৯ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব জানায়, ধর্ষণের চেষ্টা মামলার এজাহার অনুযায়ী, ভুক্তভোগী (১৭) একজন এসএসসি পরীক্ষার্থী। গত ১৫ জুলাই সকালে আত্মীয়তার সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে প্রতিবেশী মো. মামুন (৪০) তাকে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে ডেকে নেয়। সেখানে ভুক্তভোগীর আপত্তিকর ছবি অন্যের কাছে রয়েছে বলে ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে ১৬ জুলাই দেলদুয়ার থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২৭ জুলাই রাত ১১টার দিকে মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল নয়াপাড়া রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার অভিযুক্ত মো. মামুনকে গ্রেফতার করা হয়। অপরদিকে, একই দিন রাত ৯টা ৪০ মিনিটে সখিপুর উপজেলার সোলা প্রতিমা দারিয়াপুর এলাকায় পৃথক অভিযানে চেক জালিয়াতি মামলায় এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মো. রুবেল খানকে (৪৫) গ্রেফতার করা হয়। তিনি টাঙ্গাইলের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে দায়ের হওয়া এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারার একটি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত ছিলেন। গ্রেফতার দুই আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
দেলদুয়ারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৩০৩টি অবৈধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ ও ধ্বংস টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলায় অবৈধ চায়না দুয়ারী জালের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৩০৩টি অবৈধ জাল জব্দ ও বিনষ্ট করা হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই ২০২৬) দেলদুয়ার উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) পরিচালিত এ অভিযানে উপজেলার ডুবাইল ইউনিয়নের নাটিয়াপাড়া বাজারে অবস্থিত চারটি গোডাউনে মজুদ রাখা অবৈধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ করা হয়। পরে জব্দকৃত সব জাল ধ্বংস করা হয়।অভিযানে বিনষ্ট করা জালের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৯ হাজার ৯৯৯ মিটার। জব্দ ও বিনষ্ট করা জালের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১০ লাখ ৬০ হাজার টাকা।জেলা প্রশাসন জানায়, দেশীয় মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ মাছের প্রজনন নিশ্চিতকরণ এবং জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অবৈধ চায়না দুয়ারী জালের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।