রমজানের শুরুতেই টাঙ্গাইলে লেবুসহ নিত্যপণ্যের দাম বাড়তি, চাপে ক্রেতারা
রিপোর্টার:
নাদিম তালুকদার
: স্টাফ রিপোর্টার ( মুক্তধ্বনি )
প্রতি বছরের মতো পবিত্র রমজান মাসের শুরুতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু পণ্যের দাম বাড়ার প্রবণতা আবারও দেখা দিয়েছে বাজারে। গেল বছর তুলনামূলকভাবে বাজার কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও এবার পুরোনো চিত্রই ফিরে এসেছে। রোজার শুরুতেই লেবুসহ বিভিন্ন সবজি, মুরগি ও গরুর মাংসের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) টাঙ্গাইল শহরের বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, সবজির পাশাপাশি আমিষজাত পণ্যের দামও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। বাজারে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে লেবু।
মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে লেবুর দাম দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত বেড়েছে। গেল সপ্তাহে বাজারে প্রতি হালি লেবু ২০ থেকে সর্বোচ্চ ৪০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ৬০ থেকে ৮০ টাকায় পৌঁছেছে। কিছু ক্ষেত্রে পাকা লেবু ১০০ টাকা হালিতেও বিক্রি হচ্ছে। দেশি কাগজি লেবুর তুলনায় এলাচি লেবুর দাম বেশি দেখা গেছে।
টাঙ্গাইল পার্ক বাজারের সবজি বিক্রেতা শাহজাহান জানান, “একদাম ৮০ টাকা হালি। কেনার দামই বেশি, তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।”
একই বাজারের আরেক বিক্রেতা জসিম বলেন, রোজা উপলক্ষে লেবুর চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে। ইফতারিতে শরবত, মুড়িমাখা, হালিমসহ বিভিন্ন খাবারের সঙ্গে লেবুর ব্যবহার বেশি হওয়ায় পাইকারি বাজারেও দাম বেড়েছে।
লেবুর দাম বাড়াকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চলছে আলোচনা-সমালোচনা ও হাস্যরস। কেউ লিখছেন, “আপনার এলাকায় লেবুর ভরি কত?” আবার কেউ মজা করে বলছেন, “এবার মনে হয় লেবু ছাড়া শরবত বানাতে হবে।”
বেসরকারি চাকরিজীবী সামিন খান বলেন, “মনে হচ্ছে এই দুদিনে লেবুতে ভিটামিনের পরিমাণ বেড়ে গেছে। ৮০ টাকা হালি দিয়ে কিনে অন্তত তাই মনে হচ্ছে। সাধারণ মানুষের জন্য এটা কষ্টকর।”শুধু লেবু নয়, বাজারে মুরগির দামও বেড়েছে। গেল সপ্তাহে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৭০-১৮০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ২০০-২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
সোনালি মুরগি সপ্তাহের ব্যবধানে ৩০-৪০ টাকা বেড়ে ৩৫০-৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি মুরগির দাম ৬০০-৬৫০ টাকা থেকে বেড়ে বর্তমানে ৭০০-৭২০ টাকায় পৌঁছেছে।গরুর মাংসের বাজারেও দাম কিছুটা বেড়েছে। গেল সপ্তাহে প্রতি কেজি ৭৫০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ৭৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ কমে যাওয়া ও চাহিদা বাড়ার কারণে দাম বেড়েছে।ক্রেতাদের অভিযোগ, রোজা এলেই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়ে দেন। তারা বাজার মনিটরিং জোরদার ও প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রমজান মাসে নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো জরুরি, যাতে সাধারণ মানুষ স্বস্তিতে কেনাকাটা করতে পারে।