বাংলাদেশের বিএএফ এমআইজি -২৯ উরলো বেলারুশের উপর।

0
153
অনলাইন

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বহরে থাকা মীগ-২৯ বিমান গুলো মিড লাইফ ওভারহল এবং আপগ্রেডের জন্য ২০১৯ সালে বেলারুশ পাঠানো হয়। তারই ধারাবাহিকতায় বিমানবাহিনীর প্রথম ব্যাচের ৪ টি মীগ-২৯ এর আপগ্রেড ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ইতি মধ্যে আপগ্রেড এর পর আমাদের বিমান বাহিনীর একমাত্র ৪র্থ জেনারেশনের বিমান গুলো টেস্ট ফ্লাইট সম্পন্ন করেছে।

কি ধরনের আপগ্রেড করা হয়েছে বিমান গুলোতে? বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর মীগ-২৯ বিমান গুলোকে বেলারুশের ৫৫৮ রিপেয়ার প্লান্ট এর অধীনে মিগ২৯ বিএম ভার্শন এর উপর ভিত্তি করে আপগ্রেড করা হয়েছে। চলতি মাসের প্রথমে বিমানগুলোর টেস্ট ফ্লাইটও হয়েছে বেলারুশে।

বেলারুশ বিমান বাহিনীর ব্যবহার করা মীগ-২৯ বিএম থেকে আমাদের বিমান গুলো কিছু ক্ষেত্রে ডাউনগ্রেড আপগ্রেড পেলেও বাংলাদেশের চাহিদা অনুসারে বিমান গুলো যথাযথ আপগ্রেডেশন পেয়েছে। মিগ-২৯ বিএম মুলত একটা স্ট্রাইক রোল বিমান যা গ্রাউন্ড এট্যাক কে প্রাধান্য দিয়ে ডিজাইন করা হয়েছে। আর তার জন্য আমাদের মীগ-২৯ গুলোর আপগ্রেডেশন মুলত এর গ্রাউন্ড স্ট্রাইক ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে।।

গ্রাউন্ড স্ট্রাইক এর অস্ত্র বহন ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রথমেই এর পুরাতন ঈঞ্জিন পরিবর্তন করে এতে আরডি-৩৩ -৩ সিরিজের ঈঞ্জিন যুক্ত করা হয়েছে যা এর থ্রাস্ট বৃদ্ধির পাশাপাশি এতে অতিরিক্ত ১৫০০ কেজি অস্ত্র বা অন্যান্য সরঞ্জাম বৃদ্ধির সক্ষমতা প্রদান করবে।একই সাথে মীগ-২৯ বিমানের লিজেন্ডারি ওয়েল বার্ন এর কারনে উৎপন্ন কালো ধূঁয়ার সমস্যারও সমাধান হবে যা ইনফ্রারেড সিগনেচার কমাতে সাহায্য করবে।।

এই ঈঞ্জিনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল এটি তুলনামূলক কম তেল খরচ করে যা বিমানের রেঞ্জ বৃদ্ধি করতে সহায়তা করবে। গ্রাউন্ড এবং নেভাল স্ট্রাইক সক্ষমতা আধুনিক করতে আমাদের মিগ-২৯ গুলোর রাডার পরিবর্তন করা হয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে বেলারুশ এর মিগ-২৯ বিএম ভার্শন এর ন্যায় আমাদের মীগ-২৯ বিমান গুলো তে এন-০৯১এমপি পালস ডপ্লার রাডার ব্যবহার করা হতে পারে যেটি পূর্বের এন-০১০ যুক রাডার কে প্রতিস্থাপন করবে।

এই রাডার এর বিশেষত্ব হল এই রাডার টি পূর্বের রাডার থেকে বেশি শক্তিশালী এবং এটি এয়ার টার্গেট এর পাশাপাশি গ্রাউন্ড টার্গেট কে পিনপয়েন্ট এক্যুরেসি তে খুজে বের করতে সক্ষম। নতুন এই রাডার এর ট্রাকিং রেঞ্জ এয়ার টু এয়ার টার্গেট এর ক্ষেত্রে ১৫০ কিঃমি। এছাড়া এই রাডারে ৩ টি ভিন্ন মোড রয়েছে যার অধীনে এই রাডার বিভিয়ার রেঞ্জ গ্রাউন্ড অপারেশন এবং ডগ ফাইট রোলে আলাদা আলাদা মোডে কাজ করতে সক্ষম।

রাডার টি ৭০-৮০ কিঃমি রেঞ্জ এর মধ্যে 3mc2 টার্গেট ট্রাক এবং লক করতে সক্ষম।অন্যদিকে ডগফাইট রোলে এই রাডার ১০ কিঃমি এলাকা জুড়ে হাই এক্যুরেসি মুডে কাজ করে ফলে ডগফাইট এর সময় এই রাডার অটো মুডে ১ সেকেন্ড সময়ের মধ্যে টার্গেট কে লক করতে সক্ষম। এই রাডার একই সময়ে এক সাথে ২০ টি টার্গেট ট্র্যাক এবং ৪ টি টার্গেট এনগেজ করতে সক্ষম।

আর বিমানের এই রাডার কে আরও কার্যকর করতে এই রাডার সাথে যুক্ত হয়েছে এন-১১৯ নেভিগেশন সিস্টেম যা বিমানের এক্যুরেসি এবং টার্গেটিং ক্ষমতা কে অনেক আংশে বাড়িয়ে দেবে। স্ট্রাইক রোল কে মাথায় রেখে আপগ্রেড করা মীগ-২৯ বিমএম ভার্শন এর উপর বেসড আমাদের মীগ-২৯ গুলো গ্রাউন্ড রোলে বিভিন্ন ধরনের নতুন প্রজন্মের মিসাইল এবং বোমা ব্যবহার করতে সক্ষম হবে।

আপগ্রেড এর ফলে বিমান গুলো কাব সিরিজের বিভিন্ন স্মার্ট বোম, এয়ার টু গ্রাউন্ড মিসাইল, এন্টি রেডিয়েশন মিসাইল, এন্টি শীপ মিসাইল বহন করতে সক্ষম হবে। এর পাশাপাশি বিমান গুলোতে আর-৭৭-১ বিভিয়ার মিসাইল, আর-২৭ ইটি-১ বিভিয়ার মিসাইল KH-31 এন্টিশীপ মিসাইল ব্যবহার করতে পারবে।

এসব আপগ্রেড এর পাশাপাশি বিমান গুলোর ককপিটেও বিভিন্ন পরিবর্তন হয়েছে। খুব সম্ভবত বিমান গুলোতে সেমি গ্লাস ককপিট যুক্ত করা হবে সেই সাথে বিমানগুলো তে ব্যবহার ডিজিটাল এলগরিদম ক্যাকুলেশন সফটওয়্যার এবং কম্পিউটার আপগ্রেড করা হতে পারে।

পাশাপাশি আমাদের মিগ-২৯ গুলো ভবিষ্যতে বিভিন্ন ধরনের পড ব্যবহার করতে সক্ষম হবে। এই সকল আপগ্রেড এর বাইরে যে আপগ্রেড গুলো করা হয় নি…. বেলারুশীয় মিগ-২৯ বিএম এর মত আমাদের বিমান গুলো তে এয়ার টু এয়ার রিফুলেনিং সক্ষমতা যুক্ত করা হয় নি। বিমান এর ইন্টারনাল ফুয়েল ক্যাপাসিটি আগের মতই রাখা হয়েছে। এছাড়া বিএম ভার্ষনে ব্যবহার করা ল্যান্ডিং গিয়ার যা বিএম ভার্ষন এর অতিরিক্ত ওজন বহনের জন্য আপগ্রেড করা হয়েছে তা আমাদের বিমানে ব্যবহার করা হয় নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here