নিজের গর্ত নিজেই খুঁড়ছেন না তো? ভেবে দেখবেন!!!

0
196

মানুষের দোষ চর্চা না করা, অপরিহার্য না হলে কারো দোষের বর্ণনা শোনা-বলা থেকে এড়িয়ে যাওয়া ইসলামের মৌলিক সামাজিক শিক্ষাগুলোর অন্যতম।বিখ্যাত হাদিস অনুসারে যে মানুষের দোষ আড়াল করে আল্লাহ তায়ালাও তার দোষ আড়াল করেন। এই হাদিসের মাফহুমে মুখালেফ হলো, যারা মানুষের দোষ চর্চা করে বেড়ায় আল্লাহ তায়ালাও কোন কোন ক্ষেত্রে তাদের দোষ প্রকাশ করে দেন।গত কয়েকদিন যা হচ্ছে, যে তরিকায় হচ্ছে তার উভয়টাই ফেসবুকের কথিত ইসলামপন্থীদের নিজেদের করা পূর্বতন পদ্ধতি মেনেই হচ্ছে। নিজেদের ব্যবহৃত অস্ত্র বুমেরাং হয়ে এখন নিজেদের বুকে আঘাত করছে।আরো স্পষ্ট করে বললে, একদা যে অস্ত্র ও যে বিষয়কে কেন্দ্র করে ফেসবুকের কথিত ইসলামপন্থীরা একে অপরকে ঘায়েল করেছে সেই একই বিষয় ও অস্ত্র ব্যবহার করে এবার খোদ ইসলামপন্থাকেই ঘায়েল করা হয়েছে।বেকাফুল মাদারিসকে নিয়ে মাও. মামুনুল হক সাহেবর চেয়েও বড় বড় শায়খদের সাথে “ফোনালাপ” ফাঁসের রাজনীতি করা হয়েছে। শাইখুল ইসলাম শাহ আহমদ শফি রঃ, শাইখুল হাদিস মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস সাহেবের সাথেও (ফোনালাপ ফাঁস করা যে ব্যক্তি স্বাধীনতার খেলাফ সেই বিবেচনা না করে) নোংরা “ফোনালাপ” ফাঁসের অপরাজনীতি করা হয়েছে।ফোনালাপ ফাঁসের রাজনীতি করে “মহান বিপ্লব”ও সফল করা হয়েছে।বিষয়ের ক্ষেত্রে এই তো কয়েকদিন আগ পর্যন্ত বাংলাদেশের আরেকজন নন্দিন ওয়ায়েজ মাওলানা হাবিবুর রহমান মিসবাহ সাহেবকে একই রকম অভিযোগ তুলে ও ফোনালাপ ফাঁস করে তার জীবনও অতিষ্ট করে ফেলা হয়েছিলো।এই উভয় ঘটনায় আক্রমনকারী ও আক্রান্ত ব্যক্তি উভয়েই একই ঘরনার। উভয়ই ইসলামপন্থী এমনকি কওমী সংশ্লিষ্ট।অতিতের সেই দুই ঘটনায় কওমী অঙ্গনের আমরা সবাই দায়ী। একদল পারিবারিক বিষয়কে সামনে এনে ফোনালাপ ফাঁসের রাজনীতি করে ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করেছে আরেকদল আমরা চুপ করেছিলাম। চুপ করাদের কেউ সমর্থন করেছে আবার কেউ ভয়ে চুপ ছিলো।এখন কি হলো?কওমী অঙ্গনের অভ্যন্তরে ব্যবহৃত এজেন্ডা ও অস্ত্রকে ব্যবহার করেই গোটা কওমী অঙ্গনকে নাস্তানাবুদ করে দিলো বিরুদ্ধ পাড়ার মিডিয়া ও লোকেরা।যে অন্যায় আমরা নিজেরা একে অপরের সাথে করেছি সেই অন্যায় আমাদের সাথে সম্মিলিতভাবে করা হলো।এখন অপরাধী কে?ফোনালাপ ফাঁস অপরাধ হলে সেই অপরাধ কওমী অঙ্গন নিজেরাই আগে করেছে।পারিবারিক বিষয়কে এজেন্ডা বানানো অপরাধ হলে সেই অপরাধও কওমী অঙ্গন নিজেরাই আগে করেছে।এমতঅবস্থায় আমাদের উচিৎ হলো, সম্মিলিতভাবে তওবা করা। যে যার সাথে অন্যায় করেছে সে তার কাছে মাফ চেয়ে নেয়া।আমরা যারা সরাসরি অন্যায় করি নাই কিন্তু প্রতিবাদও করি নাই তাদেরও তওবা করে নিজেদের অভ্যন্তরের অপরাধগুলোকে থামিয়ে দেয়ার উদ্যোগ নিতে হবে।দেখেন!প্রলয় আসলে মসজিদও রক্ষা পায় না। মাওলানা মামুনুল হক হাফিজাহুল্লাহ নিশ্চয়ই আভ্যন্তরিণ অপরাধগুলোর সাথে নূন্যতম সম্পর্কিত ছিলেন না। তারপরেও চলতি বিপদটা তাঁর ওপর দিয়েই গেলো।সুতরাং এখন যারা চলতি ঘটনায় অহেতুক পোস্ট করছেন তাদের বিষয়টা মাথায় রাখা উচিৎ। আপনার ভেতরের অপরাধগুলোও আল্লাহ তায়ালা প্রকাশ করে দিতে পারেন।আসুন!পরস্পর পরস্পরের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেই। পারস্পরিক দোষ চর্চা, ফোনালাপ ফাঁস, পারিবারিক বিষয়কে প্রকাশ্যে এনে কাউকে হেনস্তা করার অপরাধ থেকে গণ তওবা করি।আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে গীবত, শেকায়েত, চোগলখোরি, গোয়েন্দাগিরির মতো অপরাধ থেকে মুক্ত রাখুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here