চীনা বিনিয়োগ আশীর্বাদ হয়েও অভিশাপ

0
145
অনলাইন থেকে সংগ্রহীত

বর্তমান প্রেক্ষাপটে পিপলস রিপাবলিক অব চায়না বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বিনিয়োগের অন্যতম বড় ক্ষেত্র হিসেবে সামনে এসেছে।
ফলাফল বাংলাদেশের শুধু অর্থনীতিই নয়,ভৌত এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন এমনকি কিছু ক্ষেত্রে রাজনীতিতেও চীনা প্রভাব স্পষ্ট বিদ্যমান।
দেশের উদায়মান শিল্প হিসেবে পাওয়ার সেক্টর,রোড এবং হাইওয়ে,গার্মেন্টস এবং যোগাযোগ সেক্টরে চীনের একটি বড় বিনিয়োগ রয়েছে।
তবে,চীনের বিনিয়োগের সহজ শর্তের পাশাপাশি অর্থ ছাড় না করা,শ্রমিকদের অর্থ দিতে বিলম্ব করা,সুদের হার বাড়ানো,বিল না করা,শ্রমিকদের সাথে দুর্ব্যবহার,দেশের প্রশাসন কে না মানা সহ নানাবিধ অভিযোগ রয়েছে।
চীনের প্রত্যেক প্রজেক্টেই নির্দিষ্ট সংখ্যক ইঞ্জিনিয়ার এবং কাঁচামাল তাদের দেশ থেকেই আনা হয়।চুক্তি অনুসারে তার পরিমান ২০-২৫ শতাংশ কিংবা এর বেশী হতে পারে।
চীনের ইঞ্জিনিয়ারদের মানব দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন না থাকলেও এক একটি প্রজেক্টে এত কম আকারের দরপত্র দিয়েও চীনের লাভ করার নীতি অনেকটা একই রকম।চীনা বিনিয়োগে বরাবরই বড় প্রজেক্ট পাবার পর তা বিভিন্ন সাবকন্ট্রাক্টে ভাগ করা হয়।ফলাফল,মুল প্রজেক্টের সাবকন্ট্রাক্টে আরো প্রতিষ্ঠান যুক্ত হয় যাদের নীতি মুল প্রতিষ্ঠানের মত শতভাগ এক থাকেনা।
মাদার প্রতিষ্ঠানের সাবকন্ট্রাক্টে থাকা প্রতিষ্ঠান চায় সর্বনিন্ম দামে দরপত্রের কাজ সম্পন্ন করতে।এক্ষেত্রে বাংলাদেশের শ্রমিক আইন,শ্রমিক লেবার নেতাদের হাতে রাখা এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে চীনা বিনিয়োগকারীরা দেশের চুক্তিভিত্তিক কোম্পানিগুলোতে প্রভাব বিস্তার করে।
চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ স্বাভাবিক তবে তার জন্য শ্রমিকদের সাথে দুর্ব্যবহার করা,ওভার টাইম কাজ করানো,শ্রমিক অসন্তোষ জিইয়ে রাখানো,এমনকি বাংগালী-চীনা শ্রমিক দ্বন্দ্ব বাড়ানোতে এমন থার্ড পার্টি সাবকন্ট্রাকটার রাই ভুমিকা পালন করে।
বাংলাদেশের অর্থনীতির বিকাশে বিদেশী বিনিয়োগের বিকল্প নেই।তবে জাপান কিংবা আমেরিকান বিনিয়োগে শ্রমিক অসন্তোষের কথা খুব কমই শুনতে পারা যায়।একই সাথে এসব চীনা প্রজেক্টে চীন-বাংলাদেশ প্রতিনিধিত্বকারী জয়েন্ট টাস্কফোর্স স্থাপন জরুরী।যারা শ্রমিক এবং একই সাথে এলাকাবাসীর দাবী-দাওয়া পূরনে কাজ করবে।
সংঘর্ষে ৫ জন শ্রমিক মারা যাবার মত দু:খজনক কিছু নেই।এস.আমল গ্রুপ চট্টগ্রামের অন্যতম সম্মানধারী এবং প্রভাবশালী একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।তবে উক্ত ঘটনায় ২৫ কোটি টাকার ক্ষতির হিসেব দিয়ে এস.আমল গ্রুপ মামলা করেছে,মামলা করেছে পুলিশ ও।একই সাথে উক্ত ঘটনায় ভাংচুর,বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগুন ধরিয়ে দেয়া,পুলিশের সাথে সংঘর্ষ এবং পুলিশের পাল্টাগুলি চালানোর তদন্ত চলমান।
চীনা শ্রমিকদের নিরাপত্তা দিতে চীন-বাংলাদেশ চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ বাধ্য।এবং এমন ঘটনা দেশের উত্তোরত্তর বিনিয়োগের প্রতি হুমকী।এখনই বাংগালীদের প্রতি চীনা অমানবিক মনোভাব না পাল্টালে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতেই থাকবে।বাংলাদেশের উচিত বিকল্প বিনিয়োগ খুজে বের করা।চীনা প্রজেক্টগুলোর তুলনায় জাপানী প্রজেক্টগুলি দ্রুত সম্পন্ন হয় এমনকি অর্থ ও ফেরত পাওয়া যায়।তবে জাপানের কড়া শর্ত পূরণ করে সব প্রজেক্ট জাপানকে দিয়ে করাবার মত সক্ষমতা এখনো বাংলাদেশের হয়নি তা ভুলে গেলে চলবেনা।একই সাথে জাপান সব প্রজেক্টে সহজে বিনিয়োগ করতেও চায়না।সুতরাং আপাতত চীনের বিকল্প পাবার আশা ক্ষীন।তাই বাস্তবতা ভুলে গেলে চলবেনা।
উল্লেক্ষ্য,২০১৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি এস আলম গ্রুপের এসএস পাওয়ার লিমিটেডের সঙ্গে চীনা প্রতিষ্ঠান সেফকো ও এইচটিজির চুক্তি হয়।তার সুত্র ধরে২০১৭ সাল থেকে গণ্ডমারা এলাকায় প্রায় ৬০০ একর জমিতে ২৫০ কোটি ডলার ব্যয়ে এটির নির্মাণকাজ শুরু হয়।
অথচ এই বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণের আগেই ২০১৬ সালের এপ্রিলে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়। তা নিয়ন্ত্রণে যায় পুলিশ। তখন নিহত হন চার গ্রামবাসী। আহত হয় পুলিশসহ অন্তত ১৯ জন।যার মুল কারন,উক্ত এলাকায় বিদ্যুৎকেন্দ্র করতে না দেয়া।একই সাথে এলাকাবাসী ও শেষপর্যন্ত উক্ত সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।এর ৫ বছর পর আবারো একই স্থানে সংঘর্ষে ৫ জন শ্রমিক নিহত এবং আরো অনেকে আহত হন।হয়ত শুন্য হওয়া শ্রমিকের অভাব হওয়ার আগেই আবারো চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ হবে।তবে এ ঘটনাগুলোর তদন্ত,সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং সেসব তদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া আবশ্যক।
তাই,চীনা প্রজেক্টগুলীর দীর্ঘসূত্রিতা আশির্বাদ না অভিশাপ তা নিয়ে ভাবার এখনই উপযুক্ত সময়।একই সাথে এসব বিষয় অন্তত আনুষ্ঠানিকভাবে চীনা এম্বাসীতে আনুষ্ঠানিক ভাবে লিখিত আকারে জানানো অত্যাবশ্যক।
সুত্রঃ অনলাইন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here