মুক্তিপণ নিতে এসে এবার র‍্যাব৩ এর সদস্যরাই গ্রেপ্তার হলেন।

0
214
অনলাইন

অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের সময় র‍্যাবের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে হাতিরঝিল থানা পুলিশ। শুক্রবার রাজধানীর বসুন্ধরা ও মধুবাগ এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় গ্রেপ্তার হয়েছে আরো ২ সহযোগীকে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে নিশ্চিত হয়েই তাদের আটক করা হয়েছে বলে জানান ঢাকা মহানগর ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলাম।

ডিএমপি কমিশনার জানান, এই অপহরণ চক্রে মোট ছয়জন ছিল। চারজনকে আটক করা হয়েছে। মামলা দায়ের করার পর তাদের র‌্যাবের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। গ্রেপ্তার চার জনের মধ্যে ৩ জন সেনা ও একজন বিমানবাহিনীর হওয়ায় নিজ বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

শফিকুল ইসলাম জানান, গতকাল রাজধানীর তামজিদ হোসেন নামে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে মুক্তিপণ চাওয়া হয়। পরে ওই ব্যবসায়ীর পরিবার হাতিরঝিল থানায় বিষয়টি জানায়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে তামজিদের বোনকে দিয়ে ফাঁদ পাতে পুলিশ। ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে রাজি হয় পরিবার। টাকা দিতে যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে যেতে বলে অপহরণকারীরা। টাকা নিতে আসলে দুইজন হাতেনাতে গ্রেপ্তার হয়।

তিনি জানান, চক্রের বাকি সদস্যদের ধরতে আবারো ফাঁদ পাতে পুলিশ। টাকা বুঝে পেয়েছে জানিয়ে গ্রেপ্তার দুইজনকে দিয়ে চক্রের বাকিদের বলা হয় অপহৃত তামজিদকে নিয়ে হাতিরঝিলে আসতে। মধুবাগে আসলে মাইক্রোবাস থেকে তামজিদকে উদ্ধার করে গ্রেপ্তার করা হয় এক নারীসহ আরো ৩ জনকে।

জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, গ্রেপ্তারকৃত ৪ জন র‍্যাবের সদস্য আর ঐ নারী তাদের সহযোগী। অপহৃত তামজিদকে ব্যবসার কথা বলে বৃহস্পতিবার উত্তরা ডেকে আনেন ঐ নারী। অসামাজিক কাজের অভিযোগ তুলে মাইক্রোবাসে করে প্রথমে গাজীপুর পরে রূপগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হয় তামজিদকে। এরপর চাওয়া হয় মুক্তিপণ।

এ ঘটনায় র‍্যাবের আরো দুই সদস্য জড়িত, তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

র‌্যাবের মুখপাত্র কমান্ডার খন্দকার আল মঈন গণমাধ্যমকে জানান, ওই চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোনো ধরনের সহানুভূতি দেখানো হবে না। এই পর্যন্ত র‌্যাবে যতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, তাদেরকে শাস্তি দেয়া হয়েছে। বাহিনী কোনো ব্যক্তির অপরাধের দায় নেয় না। র‌্যাবে অপরাধ করলে শাস্তি দেয়ার গড় শতভাগ।

সুত্রঃ অনলাইন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here