উদ্যম রোভারের মংগল যাত্রা এবং বাংলাদেশ।

0
184
অনলাইন ছবি

Nasa এর কাজকর্ম সবসময়ই ইউনিক।আমার ঠিক যখন সর্বপ্রথম Opportunity এবং Spirit রোভার মংগলে ল্যান্ড করে তখন তা ছিল হট টপিক।ন্যাশনাল জিওগ্রাফিতে এই রোভার দুটির লঞ্চ এবং মংগলে পৌছাবার এনিমেশন কয়েক হাজার বার দেখানো হতেছে।যদিও এ রোভার দুটি পৃথিবীর সাথে কমিউনিকেশন অফ করে দিয়েছে অনেক আগেই।এরপর Curiosity রোভার আর ঠিক একই ভাবে,২০২১ সালের ১৮ ই ফেব্রুয়ারি মংগলে ল্যান্ড করে Persevarance রোভার।অবশ্য,রোভারটি মংগলে যাত্রা করার আগে Nasa একটি অনলাইন ক্যাম্পেইন করে।সারা বিশ্বের সিলেক্টেড আবেদনকারীর নাম Perseverance এর একটি চিপে লেজার রশ্মি দিয়ে খোদাই করে মংগলে Perseverance এর সাথেই পাঠিয়ে দেয়ার জন্য।যার কারন,পাবলিক ইন্টারেস্ট বাড়ানো।Nasa এমন প্রজেক্টকে শুধু আমেরিকা নয় গোটা বিশ্বেই ব্রান্ডিং করেছে।😊সে যাই হউক,Perseverance রোভারটির খরচ ২.৫+ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।Curiosity রোভার এর আপগ্রেড এ প্রজেক্টে অলগারিদম,সফটওয়্যার,আর্টিফিশিয়াল ইন্টালিজেন্স,উন্নত টায়ার (আগের পাঠানো কিউরিয়োসিটি রোভারের টায়ার অলরেডি ফুটো হয়ে গেছে)বেটার মেমোরী চিপ,ক্যামেরা,ড্রিলিং ইক্যুপমেন্ট,সেন্সর সহ সবচাইতে বেশী যে দুটি বিষয় আকর্ষণ করবার মত তা হলো Inginuity হেলিকপ্টার।ড্রোন টেকনোলজির অভুতপূর্ব উন্নয়নের চরম সীমায় সৌর জগতের অন্য একটি গ্রহে মানুষ এই প্রথম একটা ড্রোন উড়াবে।ভাবতেও অবাক লাগে এই ড্রোনটির ওজন পৃথিবীর একটি ২ লিটার পানির বোতলের সমান।সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে হয়ত এই ১৪-১৫ এপ্রিলই এ,ড্রোনটি মংগলে উড়বে।মোট ৫ বার এ ড্রোনটি মংগলে উড়বে।

এবং বর্তমানে এটি উড়বার প্রস্তুতি নিচ্ছে।দীর্ঘ ৭ বছরের ট্রায়াল এবং এররের পির এ ড্রোন ডেভেলপ করে নাসা।যদিও তা একটি থার্ড পার্টি ডিফেন্স কন্ট্রেক্টার থেকে ডেভেলপ করা।Inginuityহেলিকপ্টার মুলত ২০৩০ সালের মধ্যে হতে যাওয়া Dragonfly মিশনের একটি টেকনোলোজিকাল ডেমনেস্ট্রেশন।ড্রাগনফ্লাই মিশন মুলত শনি গ্রহের সবচাইতে বৃহৎ উপগ্রহ Titan এ জীবনের উপস্থিতি দেখবার জন্য করা হবে।

সে ক্ষেত্রে ছয় চাকার রোবটের জায়গায় ব্যবহার করা হবে ড্রোন।ইনজিনিউটি হেলিকপ্টার এরই ছোটখাটো মহড়া মাত্র।Perseverance রোভার নিজের ছোটখাটো ৯৫০+ কেজি ওজনের একটি গাড়ির মত।যা হয়ত আরো ১০-১২ বছর একটিভ থাকবে।(রোভারটির লাইফ টাইম ১৪ বছর)ইতোমধ্যেই এটি জানা গেছে যে,মংগলে এক সময় পানি ছিল,এখনো বরফ আকারে কিছু পানি আছে।তবে গবেষণার স্বার্থে এই রোভারটি মংগলের বিভিন্ন স্ট্রাটেজিক পয়েন্টের মাটি,পাথরের স্যাম্পল সংগ্রহ,গবেষণা এবং সংরক্ষণ করতে পারে।এর মুল কারন,স্যাম্পল পৃথিবীতে ফেরত আনা।অর্থাৎ, কোন এক স্ট্রাটেজিক লোকেশনে এই রোভার ৪০ টির মত স্যাম্পল সংগ্রহ শেষে সংরক্ষণ করতে পারবে যা পরবর্তীতে ২০৩০ এর পর আরেকটি মিশনের মাধ্যমে পৃথিবীতে ফেরত আনা হবে।

এছাড়া মংগলে অক্সিজেন না থাকায় ইলেক্ট্রোলাইসিস প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কার্বন ডাই অক্সাইড থেকে অক্সিজেন তৈরীর একটি যন্ত্র রয়েছে এই রোভারে।এটি মুলত,মংগলে যদি মানুষ যায়,তবে তাদের জন্য অক্সিজেন কি করে বানানো যায় তারই একটি টেকনোলজিক্যাল ডেমোনেস্ট্রেশন।বাংলাদেশের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা Sparso নিজেও চাইলে ইউরোপিয়ান,চাইনিজ,জাপানিজ কিংবা নাসার সাথে এমন প্রজেক্টে যুক্ত হতে পারে।আবহাওয়া পুর্বাভাস এর বেলায় Sparso এর কৃতিত্ব থাকলেও মহাকাশ গবেষণায় এখনো বিশাল কোন অর্জন নেই বাংলাদেশের।

Nasa নিজেও বাজেট স্বল্পতা আর আমেরিকান সরকারের অনীহার জন্য অনেক প্রজেক্টে বিনিয়োগ করতে পারছেনা।বাজেট সংকটে ভুগতে থাকা এমন এজেন্সীতে ৫০ কিংবা ১০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের মত ক্ষমতা বাংলাদেশের রয়েছে।অন্তত এতে মহাকাশ গবেষণার মত বিষয়ে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হতো।দেশে সীমাবদ্ধতার অভাব নেই,তবে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও কম নেই।নিশ্চয় কোন একদিন স্যাটেলাইট লঞ্চ এর মতো সৌরজগতের অন্য কোন গ্রহে বাংলাদেশের নাম থাকবে।অন্তত আমরা তাই আশা করি।এমন প্রজেক্টে শুধু গভমেন্ট ই নয়,সায়েন্টিস্ট,শিক্ষানবিশ,ডিফেন্স কন্ট্রেক্টার সবাই জড়িত থাকে।অর্থাৎ এমন প্রজেক্ট গুলো সিভিলিয়ান এবং মিলিটারি উভয় ক্ষেত্রেই আমাদের জন্য সিভিল এবং মিলিটারজ এক্সপেরিমেন্ট,এক্সপেরিয়েন্স,ট্রায়াল এন্ড এরর এর বড় একটি ক্ষেত্র হতে পারে আমাদের জন্য।

Tanvir Zeesun

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here