ইন্দোনেশিয়ান সাবমেরিনে থাকা অক্সিজেনের সাপ্লাই ক্রমশ শেষের দিকে।

0
145

আপনারা সবাই হয়তো অবগত আছেন ইন্দোনেশিয়ান নেভির একটি সাবমেরিন টর্পেডো ফায়ারিং এর মহড়ার সময় অজানা লোকেশনে ডুবে গিয়েছে । সম্মিলিত প্রচেস্টা চালানো হচ্ছে সাবমেরিনটি উদ্ধারের জন্য কিন্তু প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার সমুদ্রতলের গভীরতা পর্যালোচনায় সাবমেরিনটি উদ্ধার কাজ অনেকটাই কঠিন এবং সাবমেরিনে থাকা অক্সিজেনের সাপ্লাই ক্রমশ শেষের দিকে আসছে । আজকে আলোচনা করা হবে সাবমেরিন রেস্কিউ মিশনের একটি প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম Deep Search And Rescue Vehicle নিয়ে । বলে রাখা ভালো এটি বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন নামে পরিচিত এবং বিভিন্ন দেশ নিজেদের প্রয়োজন অনুসারে বিভিন্নভাবে মডিফাই করে । Deep Search Rescue Vehicle মূলত সাবমেরিন রেস্কিউ শিপের একটি অংশ । এটিকে বিমানে কিংবা জাহাজে পরিবহন করা যায় । তবে কিছু ক্ষেত্রে সাবমেরিনেও পরিবহনযোগ্য যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভেহিক্যালগুলো । এই ভেহিক্যালটি ম্যান্ড কিংবা আনম্যান্ড দু’রকমই হতে পারে । মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভেহিক্যাল ম্যান্ড এর পাশাপাশি আনম্যান্ড হলেও অনেক দেশের ভেহিক্যালগুলো ম্যান্ড হয় । এটি মূলত ঐদেশের চাহিদার উপর ডিপেন্ড করে । ভেহিক্যালটিতে রয়েছে একটি সোনার এবং সিগনাল এনালাইসিস সিস্টেম । এটি সাগরের ভেতরে গিয়ে সোনার দ্বারা ডুবে যাওয়া সাবমেরিন খুজে বের করার চেস্টা করে । তারপর সাবমেরিন খুজে পেলে এটি তার আর্মের মাধ্যমে সাবমেরিনের হ্যাচ খুলে ফেলে এবং হ্যাচ এবং ভেহিক্যালের মধ্যে একটি এয়ার টাইট মাধ্যমের সৃষ্টি করে এবং সেদিক দিয়ে সাবমেরিনের ক্রুরা ভেহিক্যালে উঠে আছে । তারপর আবার এটি সাবমেরিন উদ্ধারকারী জাহাজে ফিরে যায় এটি । উল্লেখ্য এই ভেহিক্যালটি ছবিতে দেখতে ছোটখাট মনে হলেও তেমন ছোটোখাট নয় । এটিতে অপারেটর এবং রেস্কিয়ার ছাড়াও মোটামুটি ১৬ জন কিংবা তারও কিছু বেশি রেস্কিউইকে বহন করতে সক্ষম । সাবমেরিন রেস্কিউ ভেহিক্যাল তৈরির ক্ষেত্রে বৃটেনের জেমস ফিশার অ্যান্ড সন্স অগ্রগন্য । এদের তৈরি LR-5 বা DSAR ব্যবহার করে বৃটেন সহ অধিকাংশ ন্যাটো দেশ যাদের সাবমেরিন রয়েছে । এর বাইরে সিংগাপুর, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিন কোরিয়া এবং ভারতও এটি ব্যবহার করে । অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র , চীন এবং রাশিয়ারও একই ধরনের সিস্টেম রয়েছে । যেহেতু বাংলাদেশ নৌবাহিনী সাবমেরিন যুগে প্রবেশ করেছে এক্ষেত্রে আমাদের উচিত এধরনের ব্যবস্থা ইনভেন্টরিতে যুক্ত করা । ইন্দোনেশিয়ার দূর্ঘটনা অন্যান্য দেশ যাদের সাবমেরিন থাকা স্বত্তেও রেস্কিউয়ের তেমন ব্যবস্থা নেই তাদের জন্য একটি শিক্ষা হয়ে থাকবে ।

ShakirImroz

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here